দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ঝালকাঠি পৌর ভূমি অফিসে নির্ধারিত অফিস সময়ের বাইরে রাতের বেলায় কার্যক্রম পরিচালনা এবং অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত তহশিলদার মো. আবুল বাশারের বিরুদ্ধে। অভিযোগের বিষয়ে প্রশাসন তদন্তের কথা জানিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সরকারি ছুটির দিন রাতে পৌর ভূমি অফিসে গিয়ে দেখা যায়, রাত ১১টার দিকে অফিসকক্ষে আলো জ্বলছিল এবং দরজা ভেতর থেকে বন্ধ ছিল। কয়েকবার কড়া নাড়ার পর তহশিলদার মো. আবুল বাশার দরজা খুলে দেন। সে সময় তাকে সরকারি নথিপত্র নিয়ে একাই কাজ করতে দেখা যায়। এর আগে একই রাতে অফিসের সামনে কাগজপত্র হাতে কয়েকজন ব্যক্তিকে তার সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায় বলে দাবি করা হয়েছে।
রাতের বেলায় অফিসে অবস্থানের কারণ জানতে চাইলে তহশিলদার আবুল বাশার বলেন, একাধিক দায়িত্ব পালনের কারণে দিনের বেলায় সব কাজ শেষ করা সম্ভব হয় না। তাই প্রয়োজন হলে অফিস-পরবর্তী সময়েও কাজ করেন। তবে নির্ধারিত সময়ের বাইরে সরকারি নথিপত্র নিয়ে কাজ করার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, জনগণের সেবার স্বার্থেই তিনি অতিরিক্ত সময় কাজ করছেন।
এদিকে, ভূমিসেবা নিতে আসা কয়েকজন সেবাগ্রহীতা অভিযোগ করেন, দিনের পরিবর্তে অনেক সময় তাদের সন্ধ্যা বা রাতে অফিসে ডেকে নেওয়া হয় এবং অতিরিক্ত অর্থের বিনিময়ে বিভিন্ন কাজ সম্পন্ন করা হয়। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে তহশিলদার বলেন, তার কাছে লোকজন আসতেই পারে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় ব্যবসায়ী জানান, তহশিলদারকে প্রায়ই গভীর রাত পর্যন্ত অফিসে অবস্থান করতে দেখা যায় এবং ওই সময় বিভিন্ন ব্যক্তির যাতায়াতও লক্ষ্য করা যায়।
আরেক সেবাগ্রহীতা অভিযোগ করেন, নামজারির জন্য তার কাছে ১০ হাজার টাকা দাবি করা হয়েছিল। পরে পাঁচ হাজার টাকা নেওয়া হয়। এছাড়া সরকারি ফি ১ হাজার ১৭০ টাকা হলেও অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
এর আগে ২০২৬ সালের ১৬ এপ্রিল ঝালকাঠি সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর করা এক লিখিত অভিযোগে এক ব্যক্তি দাবি করেন, নামজারির জন্য তার কাছ থেকে ছয় হাজার টাকা নেওয়া হলেও সরকারি রসিদে উল্লেখ ছিল ১ হাজার ১০০ টাকা।
ঝালকাঠি সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এস এম মেহেদী হাসান বলেন, অভিযোগটি তদন্তাধীন রয়েছে। দাপ্তরিক প্রয়োজনে নির্ধারিত সময়ের বাইরে কাজ করা গেলেও ওই সময়ে সেবাগ্রহীতাদের সরকারি সেবা দেওয়ার সুযোগ নেই। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) ঝালকাঠির সভাপতি সত্যবান সেন গুপ্ত বলেন, ভূমিসেবায় অনিয়ম বা অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। সরকারি সেবায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি।
এমএম/